Loading...

পাকা পেঁপের বাণিজ্যিক উৎপাদনে বিঘা প্রতি লাভ ৮০,০০০ টাকার বেশি

বাংলাদেশে পেঁপে বরাবরই খুব জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ন একটি ফল। পেঁপের কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে প্রথমত এটি একটি স্বল্প মেয়াদী দ্বিতীয় এটি কেবল ফলই নয়, বর্তমানে সবজি হিসাবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তৃতীয় পেঁপে অত্যান্ত স্বসাদু পুষ্টিকর এবং ঔষুধিগুন সম্পূর্ণ। কাচা পেঁপেতে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য আছে।

বর্তমান বাজারে ক্রেতার কাছে পেঁপে সবজি হিসাবে এবং পাকা ফল হিসাবে তুমুল জনপ্রিয় একটি পন্য। তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে ৫ বিঘা জমির উপর উপর বা মোট ৫ বিঘা ব্যক্তিগত উদ্যেগে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেঁপে উৎপাদন করতে চাই। হাইব্রিড পেঁপে উৎপাদন করার উপর আমার তিন বছরের অভিজ্ঞতা আছে।

কি জাত এর পেঁপে উৎপাদন করতে চাই এবং কেন অধিক লাভজনক প্রজেক্টর?

পৃথিবী বিখ্যাত তাইওয়ান লেড লেডি জাতের পেঁপে বা থাই লোড লেডি জাতের পেঁপে।

* হাইব্রিড জাতের এবং সব গাছে ১০০% ফল ধরার নিশ্চয়তা।

* প্রতি গাছে কমকরে ও ৫০ কেজি ফল ধরে।

* কাচা/পাকা সব ধরনের পেঁপে উৎপাদন করা যায়।

* অধিক ভাইরাস বা ব্যাকটেরি সহনশীল একটি জাত।

* আমরা নিজেরাই আসল বীজ দেশের বাইরে থেকে সরাসরি সংগ্রহ করি এবং বিজ্ঞান সম্মত ভাবে আমরা নিজেরাই চারা উৎপাদন করি।

* বীজ থেকে চারা উৎপাদন করার সফলতা ৮০-৯০%।

* আমরা মাটি ছাড়ায় বিজ্ঞান সম্মত ভাবে শুকনা নারকিলের ফাইবার বা কোনপিট গুড়া এবং প্লাষ্টিক এর সিল্ডিং ট্রে ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করি।

* চারা উৎপাদন করার জন্য বিশেষ নেট হাউজ আমাদের আছে যার দ্বারা আমরা প্রাকৃতিক দূযোর্গ সময় কে মোকাবেলা করি।

বাণিজ্যিক পেঁপে চাষের বিনিয়োগ বিবরণ-

সময় ৮ মাস – ১২ মাস

জমির পরিমান – ৫ বিঘা

লিজ খরচ ৫ বিঘা x ১০,০০০/- = ৫০,০০০/- টাকা।

চাষ খরচ ৫ বিঘা x ৪০,০০০/- = ২,০০,০০০/- টাকা। জমির নিরাপত্তা, অন্যান্য খরচ = ২,৫০,০০০/- টাকা = ৫,০০,০০০/- টাকা।

* প্রতি বিঘা তে ৩০০ গাছ কেজি

* প্রতি গাছে ৩০০x৫০ কেজি = ১৫,০০,০০০ কেজি

* ৫ বিঘা বা ৫০০ গাছে = ৫০ কেজি x ১৫০০ গাছ

মোট উৎপাদিত পেঁপে = ৭৫,০০০ কেজি

* কিছু পেপে গ্রেডিং করলে =১৫,০০০কেজি

মোট উৎপাদিত = ৬০,০০০ কেজি পেঁপে

কাচা পেঁপের স্থানীয় বাজার মূল্য:

৭-৮ মাসের মাথায় চাইলে সব পেঁপে কাচা সবজি হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া যায়।

* স্থানীয় বাজার মূল্য:

৬০,০০০ কেজি x১৫ টাকা গড় প্রতি কেজি = ৯,০০,০০০ টাকা।

* পন্য বাজারজাতকরণ খরচ সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা, অতএব ৯,০০,০০০ টাকা – ৫০,০০০ টাকা = ৮,৫০,০০০ টাকা। এখন ৮,৫০,০০০- ৫,০০,০০০ বিনিয়োগ কৃত মূল টাকা বাদ দিলে মোট টাকার পরিমান = ৩,৫০,০০০/-

তাহলে স্থানীয় বাজারে কাঁচা পেঁপে বিক্রয় করলে ৩,৫০,০০০/- আয় করা সম্ভব। এবং প্রতি মাসে ৪৩,৭৫০/- গড় আয় করা সম্ভব।

ঢাকার পাইকারি কাওরান বাজার মূল্যঃ

প্রতি কেজি গড় মূল্য ২৫ টাকা x ৬০,০০০ কেজি = ১৫,০০,০০০/- টাকা।

পেঁপে বাজারজাত করণ + অন্যান্য খরচ সর্বোচ্চ = – ১,৫০,০০০/- টাকা

মোট পন্য বিক্রয় = ১৩,৫০,০০০ টাকা

বিনিয়োগকৃত টাকা = – ৫,০০,০০০ টাকা

নীট পন্য বিক্রয় = ৮,৫০,০০০ টাকা।

প্রতি মাসে গড় ১,০৬,২৫০ টাকা।

পাকা পেঁপের স্থানীয় বাজার মূল্য:

কাঁচা পেঁপের পাশাপাশি পাঁকা পেঁপে ও মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয়। আমাদের উৎপাদিত রেড

লেডি জাতের পেঁপে টি পাকা সুস্বাধূ ফল হিসেবে অধিক পরিচিত ও জনপ্রিয়।

* স্থানীয় বাজার মূল্য ঃ (সময় ১০-১২ মাস)

প্রতি কেজি পাকা পেপে ৩০ টাকা x ৬০,০০০ কেজি
= ১৮,০০,০০০ টাকা

পন্য বাজারজাত করণ = – ৮০,০০০ টাকা

মোট পাকা পেঁপে বিক্রয়

বিনিয়োগকৃত টাকা = ১৭,২০,০০০ টাকা

= -৫,০০,০০০ টাকা

মোট পাঁকা পেঁপের বিক্রয় লভ্যাংশ প্রতিমাসে গড় আয় = ১,০১,৬৬৬ টাকা। = ১২,২০,০০০ টাকা

* ঢাকার পাইকারি বাজার মূল্য: (সময় ১০-১২ মাস)

প্রতি কেজি গড়মূল্য ৫০ টাকা ৬০,০০০ কেজি =৩০,০০,০০০ টাকা

পণ্য বাজার জাত খরচ

মোট পাঁকা পেঁপে বিক্রয় = – ১,৮০,০০০ টাকা

= ২৮,২০,০০০ টাকা

বিনিয়োগকৃত টাকা = – ৫,০০,০০০ টাকা

মোট পাঁকা পেঁপে বিক্রয়কৃত লভাংশ = ২৩,২০,০০০ টাকা অতএব প্রতি মাসে গড় আয় ১,৯৩,৩৩৩ টাকা।

আবার যদি পাকা পেঁপে বাড়ি বাড়ি নির্দিষ্ট ক্রেতার কাজে অগ্রীম বুকিং এর মাধ্যমে বিক্রি করা যায় তাহলে আর বেশি পরিমানে বিক্রি করা যাবে এবং লাভের পরিমান ও হবে।

উদাহরণ:

প্রতি কেজি পাকা পেঁপে ১০০ টাকা ৬০,০০০ কেজি = ৬০,০০,০০০ টাকা প্যাকেজিং ভ্যালুএ্যাড = – ৮,০০,০০০ টাকা

পরিবহন খরচ = – ২,০০,০০০ টাকা

অন্যান্য খরচ = – ২,০০,০০০ টাকা

মোট পাঁকা পেঁপে বিক্রয় = ৪৮,০০,০০০ টাকা।

বিনিয়োগকৃত মোট টাকা = -৫,০০,০০০ টাকা

মোট পাঁকা পেঁপে বিক্রয় লভ্যাংশ = ৪৩,০০,০০০ টাকা। প্রতি মাসে গড় আয় ৪,০০,০০০ টাকা।

Loading...