Loading...

ড্রামে বা টবে কদবেল চাষের পদ্ধতি

ফলটার এত স্বাদ, তবু নাম তার কতবেল। হয়তো পাকা ফলের শাঁসের রঙ ময়লার মতো বলেই এ ফলের নাম কতবেল। ফলের আকার অনেকটা টেনিস বলের মতো। শরতে যখন অন্য ফল বাজারে পাওয়া যায় না তখন এই কতবেলই হয়ে ওঠে মহার্ঘ্য বস্তু। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের অনেকেই টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে নুন-মসলা মাখিয়ে পাকা কতবেলের মধ্যে কাঠি ঢুকিয়ে ঘুটে তার শাঁস খাওয়ায় মেতে ওঠে। মেয়েরাও খুব পছন্দ করে।

ফলের বিবরণ

এ ফলের অন্য নাম কয়েতবেল। ইংরেজি নাম Elephant foot apple. মুখরোচক, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধ ও অম্ল-মধুর স্বাদের জন্য পাকা কতবেলের কদর এ দেশে সব বয়সের মানুষের কাছে রয়েছে। গাছে পাকা বেল ঘরে রাখলে তার সুগন্ধে ঘর ভরে যায়। সম্প্রতি বেশ কিছু বড় আকারের কতবেল দেখা যাচ্ছে। সে জাতের নাম বনলতা। খোসা বেলের মতো মসৃণ নয়, খসখসে, ধূসর সবুজ ও শক্ত। ফাটিয়ে ভেতরের শাঁস খেতে হয়।

কাঁচা শাঁসের রঙ হালকা বাদামি-ঘিয়ে, কইষটা, মিষ্টি-টক। কিন্তু পাকলে গাঢ় চকোলেট বা পীতাভ বাদামি হয়ে যায়, কালচে বাদামিও হয়। পাকলে শাঁস নরম হয়, চটকালে মাখনের মতো হয়ে যায়। শাঁসের ভেতর থাকে ছোট ছোট অনেক হালকা বাদামি রঙের বীজ। বীজ থেকে সহজে চারা হয়। ফুল ফোটে মার্চ-এপ্রিলে, কিন্তু ফল পাকে অনেক দেরি করে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। এ জন্য কতবেলকে ‘চিরপাকি’ নামেও ডাকা হয়।

ড্রামে কদবেল চাষের পদ্ধতিঃ

হাফ ড্রামে বনলতা জাতের বা দেশী জাতের কতবেল লাগানো যায়। চারা লাগালে ফল পেতে অনেক দেরি হয়। বেশ কয়েক বছর পরে গাছে ফুল-ফল ধরে। কিন্তু কলমের গাছে তাড়াতাড়ি ফল ধরে, লাগানোর পরের বছর থেকেই ফল ধরতে শুরু করে। জোড় কলম করে এর কলম তৈরি করা যায়। এ গাছের চাষাবাদ অনেকটা বেলের মতোই।

পাত্র ও মাটি তৈরিঃ

হাফ ড্রামের তলায় পাঁচ সেন্টিমিটার পুরু করে ইটের খোয়া বিছিয়ে তার ওপর ১০ সেন্টিমিটার বালুর স্তর দেবেন। ড্রামের তলার দিকে অবশ্যই পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। এবার তিন ভাগ দো-আঁশ মাটির সাথে দুই ভাগ গোবর সার, ড্রামপ্রতি ২০০ গ্রাম এমওপি (পটাশ) সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি (ফসফেট) সার, ১ কেজি হাড়ের গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২০ গ্রাম ম্যাগেনেসিয়াম সালফেট (ম্যাগসাল) সার ও ১০ গ্রাম দস্তা সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ড্রামে ভরে হালকা পানি দিয়ে সার মাটি ভিজিয়ে এক থেকে দুই সপ্তাহ রেখে দেবেন।

এরপর ড্রামের ঠিক মাছখানে কতবেলের কলম বসিয়ে কলমের গোড়ার মাটি চেপে শক্ত করে দেবেন। কলম লাগানোর পর গোড়ায় পানি দেবেন। কলম সোজা রাখার জন্য গোড়ার কাছাকাছি কাঠি পুঁতে তার সাথে কলম বেঁধে দেবেন। শীতকাল ছাড়া বছরের যেকোনো সময় কলম লাগাতে পারেন। ড্রাম রাখবেন রোদে, ছাদের ওপরে। ড্রামের তলায় তিন-চারটে ইট দিয়ে উঁচু করে দেবেন। এতে ছাদের ক্ষতি হবে না।

ফলন এবং পরিচর্যা

ফাল্গুন-চৈত্র মাসে কলমের গাছে ফুল আসবে। শরৎকালে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের দিকে ফল পাকতে শুরু করবে। ফল তোলার সময় কিছু ডালপালা ছেঁটে দেবেন। এতে পরের বছর বেশি ফল ধরবে। ভালো ফুল-ফল ধরার জন্য প্রতি বছর ফল তোলা শেষ হলে গাছের গোড়ার মাটিতে ড্রামপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ১০০ গ্রাম এমওপি সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি সার দুই কেজি প্যাকেটের কম্পোস্ট সারের সাথে মিশিয়ে গোড়ার মাটি নিড়িয়ে তার সাথে মিশিয়ে সেচ দিতে হবে।

গাছের বাড়বাড়তি ভালো মনে হলে বছরে একবার সার দিলেই চলে। না হলে বর্ষাকালের আগে ঠিক একই নিয়মে আরো একবার এভাবে সার দিতে হবে। ড্রামের মাটি একেবারে শুকাতে দেয়া যাবে না। শুকিয়ে এলে সেচ দিতে হবে।

Loading...