যেসব বাজে অভ্যাসের কারনে পাতলা হচ্ছে আপনার চুল, আজই সতর্ক হন

চুল পড়া, খুশকি বা উকুন ছাড়াও চুলের বড় একটি সমস্যা হলো চুল পাতলা হয়ে যাওয়া। অনেকেই ভাবেন বয়সের সাথে প্রাকৃতিকভাবেই চুল পাতলা হচ্ছে। আসলে কিন্তু আপনার নিজেরই কিছু অভ্যাসের কারণে চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে। দেখে নিন, এসব অভ্যাস আপনারও নেই তো?

১. বেশি বা কম শ্যাম্পু করা: মাথার তালু ও ত্বকের জন্য শ্যাম্পু করাটা জরুরী। মাথার তালু শরীরের অন্য জায়গার ত্বকের মতোই পরিষ্কার রাখা উচিত। সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করবেন তা প্রত্যেকের জীবনচর্চা, ত্বকের ধরণ- এসবের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু একদিন পর পর অন্তত শ্যাম্পু করাই উচিত। নয়তো তালুতে তেল ও ময়লা জমে যায়, হতে পারে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের মতো সমস্যা। এ কারণে চুল পড়ে পাতলা হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে খুব ঘন ঘন শ্যামপু করাটাও ঠিক নয়। যাদের চুল ইতোমধ্যেই শুষ্ক এবং ভঙ্গুর, ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে তাদের চুল পড়া বাড়তে পারে। তারা শ্যাম্পু কম করতে পারেন এবং ভালো মানের ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।

২. চুলের সাথে রুক্ষ্ম আচরণ: শুনে হাসি আসতে পারে। তবে যাই করুন না কেন, চুল আঁচড়ানো, শ্যাম্পু করা বা চুল শুকানো- সব সময়েই সতর্ক থাকা উচিত এবং তাড়াহুড়া বর্জন করা উচিত। এ সময়ে চুল জোরে জোরে ঘষা বা টানাটানি করা উচিত নয়। অনেকে ভাবেন রাত্রে ঘুমানোর আগে চুল আঁচড়ানো স্বাস্থ্যকর। সেটাও উচিত নয়। দরকার ছাড়া চুল আঁচড়াবেন না। অনেকেই আনমনে চুল টানেন, মাথা চুলকান বা চুলের আগা আঙ্গুলে পেচাতে থাকেন। এসব কাজে চুলের ক্ষতি হয়।

৩. স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া: চুল ভালো রাখার জন্য সবচেয়ে উপকারী ডায়েট হলো মেডিটেরানিয়ান ডায়েট। অর্থাৎ আপনাকে খেতে হবে লিন প্রোটিন (যেমন মুরগীর মাংস ও মাছ), বাদাম, শাকসবজি, ফল, হোল গ্রেইন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। আপনি সঠিক খাবার না খেলে চুলে যাই মাখুন না কেন, উপকার পাবেন না। অনেকেরই চুল পাতলা হয়ে যায় আয়রনের অভাবে। সেক্ষেত্রে খাদ্যভ্যাস ঠিক করতে হবে বা আয়রন ট্যাবলেট খেতে হবে।

৪. চুল বেশি বেশি ব্লিচ করা: চুলে রং করলে আগের থেকে ঘন দেখায়। কিন্তু চুলের রং হালকা করতে ব্লিচ করলে উল্টো সমস্যা দেখা দেয়। ব্লিচ করার পর চুল পাতলা হয়ে যায় এবং সহজেই ছিঁড়ে যায়।

৫. চুলে তাপ দেওয়া: অনেকেই চুল কার্ল করেন, বা ফ্ল্যাট আয়রন ব্যবহার করেন। এগুলো চুল ও তালু দুইয়ের জন্যই খারাপ। এছাড়া দৈনিক হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করাটাও খারাপ। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের সময়ে তাপ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

৬. ভুল হেয়ার ব্রাশের ব্যবহার: চিরুনি বা ব্রাশ প্রতিদিনই ব্যবহার করা হয়। তার মান ভালো না হলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। মোটা দাঁতের চরুনি বা প্লাস্টিকের হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন।

৭. নিয়মিত ট্রিম না করানো: চুল লম্বা করতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত চুল ট্রিম করান না। এতে চুল লম্বা হয় বটে কিন্তু চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতি আট সপ্তাহ পর পর একবার চুল ট্রিম করে নেওয়া ভালো।

৮. অতিরিক্ত স্ট্রেস: স্ট্রেসে থাকলেও অনেকে স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করেন না। যাদের স্ট্রেস বেশি হয়, তাদের চুলটাও পাতলা হয়ে যায়। স্ট্রেস কমাতে ব্যায়াম, ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন।

৯. ধূমপান: ধূমপান কোনোভাবেই স্বাস্থ্যের উপকারে আসে না। তা চুলের জন্যেও ক্ষতিকর। তালুতে রক্ত সরবরাহের ক্ষতি করে ধূমপান, এ কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়। ধূমপান ছেড়ে দিলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো হতে পারে।

১০. সকালের নাশতা বাদ দেওয়া: সকালে পেটভরে নাশতা করাটা চুলের জন্য উপকারী। এতে চুল নরম ও সুস্থ থাকে। সকালে ব্যস্ততার কারণে নাশতা না করাটা চুলের ক্ষতি করতে পারে।

১১. চুলের জন্য ভুল স্টাইলিং প্রডাক্ট ব্যবহার: চুল সুন্দর দেখাতে জেল, স্প্রে বা মুজ ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু লম্বা সময় ধরে এসব চুলে মাখিয়ে রাখাটা চুলের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো চুলকে শুষ্ক করে ফেলতে পারে, ফলে চুল পড়ে যায় সহজে।

১২. চুল টাইট করে বাঁধা: পনিটেইল বা বেণী করার সময়ে অনেকে চুল খুব টাইট করে বাঁধেন। ছোটবেলা থেকে চুল টেনে বাঁধার অভ্যাসটিতে অনেকের কপাল বড় হয়ে যায় এবং চুল পাতলা হয়ে যায়। চুল পাতলা হয়ে গেলে এভাবে টেনে বাঁধার অভ্যাস বর্জন করুন এবং চুল বাঁধলেও আলগা করে বাঁধার অভ্যাস করুন।

১৩. পাকা চুল টেনে তোলা: মাথায় পাকা চুল দেখা মাত্রই আতঙ্কিত হয়ে অনেকে তা টেনে তুলে ফেলেন। কিন্তু এতে আসলে পাকা চুলের সমস্যা যায় না। বরং চুল পাতলা হতে থাকে। এ সমস্যায় চুলে রং করে ফেলাই ভালো।

১৪. রোদে চুল খুলে রাখা: রোদে চুল ঢেকে না রাখলে চুলের ক্ষতি হয় সহজেই। এতে চুল পড়ে পাতলা হতে পারে। হেয়ার সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন, স্কার্ফ বা হ্যাট দিয়ে চুল ঢাকতে পারেন।

১৫. চুলকে অবহেলা করা: চুল পাতলা দেখাচ্ছে, তাই ভেবে নেবেন না এটা বয়সের কারণে হচ্ছে। তারা চুলের যত্নে কোনো ব্যবস্থাই নেন না। ফলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকে। কিন্তু চুলে পরিবর্তন আসছে দেখতে পেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত, অন্তত যত্নের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো উচিত।

চুল পাতলা হতে থাকলে অনেকে আবার উল্টোটা করেন। চুল ঘন দেখানোর জন্য তারা হেয়ারস্টাইলিং করেন এমনভাবে যাতে উল্টো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল। এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।

কীভাবে বুঝবেন চুল পড়ে যাচ্ছে?

চিরুনি দিয়ে আঁচরানোর পর অনেক চুল আপনার চিরুনিতে কী লেগে আছে? যদি তাই হয় তাহলে এটা নিশ্চিত যে লাখ লাখ মানুষের মতো আপনিও চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেশির ভাগ সময় চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণেই চুল পড়ে যায়। এ ছাড়া ভুল ডায়েট বা চুলের নতুন ট্রিটমেন্টও চুল পড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না এবং আপনার মাথার ত্বকেরও কোনো ক্ষতি হয় না।

দুই একটা চুল পড়লেই ভাববেন না যে আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে। চুল পড়ে যাওয়ারও কিছু লক্ষণ আছে। যার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বোল্ডস্কাই ওয়েবসাইটের লাইফস্টাইল বিভাগে। চলুন, এক নজরে দেখে নিন কী কী কারণে বুঝবেন আপনি চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন।

১. চুলের ভিতরে হাতের আঙুল দিয়ে আঁচরানোর মতো করে কয়েকবার মাথার তালু ধরার চেষ্টা করুন। যদি প্রথম বারে আপনি হাত দিয়েই মাথার তালু ধরতে পারেন তাহলে বুঝে নিবেন আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে। পড়ে যাওয়ার কারণে চুল অনেক পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে হাত দিলেই মাথার তালু ধরা যায়। এই লক্ষণই বলে দেবে আপনি চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন।

২. টাক পড়া চুল পড়ে যাওয়ার খুবই সাধারণ একটা লক্ষণ। যখনই দেখবেন, মাথার কোনো এক জায়গায় চুল নেই তখনই ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা শুরু করে দিন। যাতে নতুন চুল গজাতে পারে।

৩. হঠাৎ করে যখনই চিরুনি দিয়ে আঁচরানোর সঙ্গে সঙ্গে চুল উঠে আসবে এবং এই ঘটনা নিয়মিতই ঘটতে থাকবে তখনই বুঝবেন আপনার চুলপড়া শুরু হয়েছে। নারকেল তেলের ম্যাসাজ আপনার এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

৪. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি দেখেন বালিশে চুল লেগে আছে তাহলে বুঝবেন এখনি আপনার চুলের যত্ন নেওয়া উচিত। না হলে চুল কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারবেন না।

গোসল করার পর যদি দেখেন অনেক চুল হাতের সঙ্গে উঠে আসছে বা বাথরুমের ফ্লোরে চুল পড়ে আছে তাহলে বুঝবেন আপনি চুলের সঠিক যত্ন নিচ্ছেন না। আর এর ফলে আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে।

পরামর্শ

১. সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ভালোভাবে শ্যাম্পু করে চুল পরিষ্কার করুন।

২. হালকা গরম নারকেল তেল দিয়ে দুই একদিন পরপর চুল ও মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন।

৩. প্রতিবার শ্যাম্পুর পর অবশ্যই বেশি করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

৪. সপ্তাহে অথবা ১৫ দিনে একবার মাথায় ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে টকদই, লেবুর রস, আমলকির রস অথবা অ্যালোভেরার রস ব্যবহার করতে পারেন। তবে কখনোই একটি উপাদান চুলে লাগাবেন না। সবসময় দুটি না হলে তিনটি উপাদান মিশিয়ে চুলে ও মাথার তালুতে ব্যবহার করুন।

৫. যদি চুলপড়া কমাতে চান তাহলে দুশ্চিন্তা একেবারেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

মাথার সামনের অংশের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? জেনে রাখুন সমাধান

সুন্দর চুলের অধিকারী সকলেই হতে চান। কিন্তু আজকাল অনেকই একটি প্রশ্ন করতে দেখা যায় যে, মাথার সামনের চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমাধান কী? অনেকেরই হয় এই সমস্যা। বিশেষ করে চুলের মাঝখানে কিংবা ডানে-বায়ে যেখানে সিঁথি টানা হয় সেখানকার চুলগুলো অনেক পাতলা হয়ে যায় এবং সিঁথি ক্রমশ চওড়া হতে থাকে। ফলে দেখতেও খারাপ লাগে। তাই মাথার সামনের চুল পাতলা হয়ে যাওয়া সমস্যা থেকে রেহাই পেতে জেনে রাখুন কিছু টিপস।

যা করবেন

১. খুব টেনে চুল বাঁধবেন না। পিছনের দিকে টেনে চুল বাঁধলে সামনের অংশে চুল ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। হেয়ার লাইন দুর্বল হলে এই সমস্যা হতে পারে।

২. তেল গরম করে মাথায় ম্যাসাজ করুন। তবে খুব জোরে ম্যাসাজ করবেন না। শুধুমাত্র আঙুলের ডগার সাহায্যে মাথার তালুতে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। এতে মাথায় রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে চুল পড়া কমে, সপ্তাহে ২/৩ বার করুন।

৩. মাথার তালুতে নিয়মিত হার্বাল হেয়ার টনিক লাগান, যেটা আপনার চুলে মানিয়ে যায়। এছাড়াও কোন ভালো বিউটি সেলুনে গিয়ে ক্লিনিক্যাল স্কাল্প ট্রিটমেন্ট করতে পারেন। এটি হেয়ার গ্রোথে সাহায্য করে। আর এর সাথে নজর রাখতে হবে খাওয়ার দিকেও। ৪। অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।

চুল পড়া প্রতিরোধে পরীক্ষিত ৮ প্রাকৃতিক উপাদান

মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই এর প্রতিরোধ করতে পারছেন না। এ জন্য মহা টেনশনে ভুগছেন আপনি। তবে এ নিয়ে আর চিন্তা নয়। ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারেন ৮টি প্রাকৃতিক উপাদান, যা আপনার চুল পড়া বন্ধ করবে। একই সঙ্গে ফিরিয়ে আনবে ঔজ্জ্বল্য।

গরম তেল ম্যাসাজ: কিছু তেল (নারিকেল বা বাদামের তেল) গরম করুন। এরপর আঙুল দিয়ে তা মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে। নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হবে।

পেঁয়াজের রস: ব্যাপক পরিমাণে সালফার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চুলের জন্য মহা-উপকারী। চুলের গোড়া শক্ত করতে এর জুড়িমেলা ভার। মাথার খুশকি দূরেও এটি মহা ঔষধ।

পালংয়ের রস: কথায় রয়েছে-শারীরিক সমস্যার সব সমাধান রয়েছে রান্নাঘরে। চুল পড়া নিরাময়ের ওষুধ আছে এখানে। নিয়মিত পালংয়ের রস (পালংশাক) ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হয় বজ্রগতিতে। শুধু রস নয়, এটি নিয়মিত খেলে চুলসংক্রান্ত সব সমস্যা দূর হয় নিমিষেই।

গ্রিন টি: এটি শুধু চুল পড়াই বন্ধ করে না। চুল গজাতেও সহায়তা করে। বিশ্বাস হচ্ছে না! কয়েক দিন ব্যবহার করুন না। এরপর পরিবর্তন লক্ষ করুন।

মেডিটেশন করুন: স্ট্রেস (stresss) বা চাপ! বলা হয়, ইংরেজি ছয় বর্ণের শব্দটিই মানবজীবনে যত সব রোগের অন্যতম কারণ। আসলেই তাই! চুল পড়ারও অন্যতম কারণ মানসিক চাপ, অবসাদ। এ প্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মেডিটেশন করলে চুল পড়ার হার ব্যাপক হারে কমে।

আমলকি: বলুন তো, চুলের চিকিৎসায় সবচেয়ে উপকারী ফল কোনটি? উত্তর-আমলকি। এটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি উপাদানে সমৃদ্ধ। চুলের গোড়া মজবুত ও শক্তিশালী করতে এর বিকল্প নেই। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান খুশকি প্রতিরোধেও দারুণ ভূমিকা রাখে।

কলা, তেল ও মধুর মিশ্রণ: চুলের যত্নে আমরা নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকি। তবে তা চুলের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এতে চুল পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। এক্ষেত্রে আমরা কলা, নারিকেল তেল, অলিভ ওয়েল ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারি। নিয়মিত ব্যবহারে ম্যাজিকের মতো চুল পড়া কমে।

নিমপাতা: নিমের রয়েছে বহু ঔষধি গুণ। চুল পড়া প্রতিরোধেও এটি দারুণ কার্যকর। এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। যা চুলে গোড়া নরম করা খুশকি দূর করে পুষ্টি জোগায়। ফলে চুল আরও প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী হয়ে উঠে।

চুল পড়া প্রতিরোধে তিন পরামর্শ

প্রতিদিন ৫০ থেকে একশটি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর চেয়ে বেশি পড়লে একে সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। বিভিন্ন কারণে চুল পড়ে। ক্যামিক্যাল সমৃদ্ধ চুলের পণ্য, বয়স, বংশগতি, চুলের অযত্ন ইত্যাদি চুল পড়ার কারণ।

চুল পড়া প্রতিরোধে কিছু পরামর্শ জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।

১. নিয়মিত ম্যাসাজ

চুল পড়া কমাতে নিয়মিত স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়,শরীর-মন শিথিল হতে সাহায্য করে, মানসিক চাপ কমায়। মানসিক চাপ চুল পড়ার একটি কারণ।

১. পছন্দমতো সামান্য তেল নিন।

২. তেল হালকা গরম করে মাথায় মাখুন।

৩. একে এক ঘণ্টা বা সারারাত রাখুন।

৪. এরপর শ্যাম্পু করুন।

৫. সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

৬. চুলের যত্নে রুটিন মেনে চলুন

চুল ভালো রাখতে যত্ন নেয়াটা খুব জরুরি।তাই চুলের যত্নে রুটিন মেনে চলুন।ভালো একটি শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোন। তবে খুব বেশি চুল ধোয়া ক্ষতির কারণ হতে পারে। বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার নষ্ট করে এবং চুলকে শুষ্ক করে তোলে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোন। চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

সঠিক খাবার খান

চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখতে পুষ্টিকর খাবার খান। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এগুলো চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

Loading...