সুখ পেতে নিজের মতো করে চালান জীবন, জেনে নিন বিস্তারিত

নিয়ম ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত নিয়মের চাপে নাজেহাল হওয়া ভালো নয়। এই ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ থাকবেই। কোনো দিন হয়তো কাজের চাপ বেশি থাকে, কোনো দিন কিছুটা কম। তাই পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুসারে দিনের একটা ছক বা কাজের নিয়ম করে নেওয়া জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, সময়টা যেন নিরুদ্বেগে কাটানো যায়।

শিশুদের ওপর সময় মেনে চলার চাপ তৈরি করেন মা-বাবা। নিজেদের স্বপ্নপূরণের জন্য তাঁরা সন্তানদের বাড়তি চাপ দেন। এতে শিশুদের শৈশব হারিয়ে যায়। মার্কিন মনস্তত্ত্ববিদ জ্যাক ব্লক ১০০ জন শিশুর ওপর মাইলফলক একটি জরিপ চালিয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি তাদের পর্যবেক্ষণ করেছেন। দেখা গেছে, অতিরিক্ত নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দিয়ে যারা বড় হয়েছে, তারা সবকিছু খুব নিখুঁতভাবে করতে চায়। আর এটা করতে গিয়ে মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে দিন কাটায়। অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাও তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়াজালে বন্দী হয়ে পড়ে তাদের জীবন।

মনস্তাত্ত্বিক জ্যাক ব্লক এ কথাও বলছেন, আত্মনিয়ন্ত্রণ কম থাকলে মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। সহজেই বিপথগামী হয়। ঝুঁকি নিতে থাকে। তাই নিজের মতো করে নিয়মানুবর্তিতা মানা জরুরি। প্রত্যেক মানুষের পরিস্থিতি ও প্রত্যাশা অনুসারে নিয়মানুবর্তিতা তৈরি করার পক্ষে এই মনস্তত্ত্ববিদ।

শিক্ষক আলফি কোহন বলছেন, যখন কোনো শিশুকে কেবলই পড়াশোনা ও পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, তখন তার কাছে পুরো সময়ই চাপমূলক বলে মনে হয়। কিন্তু সে যদি নিজের মতো করে নিয়ম তৈরি করে ও পড়াশোনা করে, তাহলে ভার কিছুটা লাঘব করা যায়। নিরুদ্বেগে পড়াশোনাও করতে পারে।

এ ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন গার্ডিয়ানের সংবাদকর্মী অলিভার বার্কম্যান। কাজের চাপ বেশি থাকলে তিনি গুরুত্ব অনুসারে পরিকল্পনা করেন। সেদিন সাধারণত অন্যদিনের চেয়ে এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সময় কম দেন। তবে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার চেষ্টা করেন। এতে তিনি মানসিক চাপে কম ভোগেন। এতে সহজে কাজটি করতে পারেন।

একটি বিষয় মাথায় রাখলে নিয়মানুবর্তিতা চাপে পরিণত হয় না। তা হলো কোনো কাজ একবার শুরু করলে অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে না রাখা। যেকোনো কাজ সময়মতো শেষ করার সহজ শর্তটি মেনে চলা জরুরি। এতে উদ্বেগ ও চাপ ছাড়াই কাজ করা যায়। নিয়ম তখন আর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় না।

চাপমুক্ত থাকার উপায় শুনলেন সিইওরা

কোনো কোম্পানির সিইও মানেই প্রচণ্ড ব্যস্ততা। নাশতার টেবিলে হয়তো পরিবারের সঙ্গে সাময়িক দেখা। তারপর শুরু হয়ে যায় দিনের ব্যস্ততা। হাজারটা ফোন, মিটিং, কনফারেন্স—সব মিলিয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফেরা। না নিজেকে সময় দেওয়া যায়, না পরিবারকে। সিইওদের সঙ্গে ‘চাপ’ শব্দটি যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের তাজ ল্যান্ডস অ্যান্ড হোটেলে ‘সিইও অ্যাওয়ার্ডস ২০১৭’ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাড়ম্বরে সেরা ১০ সিইওকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই মঞ্চে বাংলাদেশের ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানকে এই বছরের ‘সার্ক আউটস্ট্যান্ডিং লিডার’-এর সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন পেশার চার ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এদিন এক অভিনব আড্ডার আয়োজন করা হয়। এই চার ব্যক্তিত্ব হলেন তারকা শেফ সঞ্জীব কাপুর, মডেল-অভিনেত্রী ইয়াসমিন, প্রখ্যাত চিকিৎসক মুফফাজল লকড়াওয়ালা ও চিত্রগ্রাহক-নির্মাতা অতুল কাসবেকর। এই চার ব্যক্তি এদিন কোম্পানির সিইওদের চাপমুক্ত থাকার নানান উপায় বাতলে দেন।

শেফ সঞ্জীব কাপুর বলেন, ‘আমি সাপ্তাহিক ছুটি পরিবারের সঙ্গে সব সময় কাটাই। এতে চাপমুক্ত থাকা যায়। তাই সিইওদের উচিত পরিবারকে সময় দেওয়া। আর রান্নার কাজ করার মাধ্যমে বেশ হালকা থাকা যায়। সিইওরা মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের নিজের হাতে কিছু বানিয়ে খাওয়াতে পারেন।’

সিইওদের উদ্দেশে ইয়াসমিন বলেন, ‘নিজেকে ফিট রাখতে শরীরচর্চা করা খুব জরুরি। এ ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধাই নয়। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ৬০ বছর বয়সে নিয়মিত জিমনেশিয়ামে যেতেন। প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার হাঁটতেন।’

মুফফাজল লকড়াওয়ালা মনে করেন, সংগীতই সব থেকে বেশি চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, ‘আমি অপারেশনের সময়ও আইপ্যাডে মিউজিক চালিয়ে দিই। কখনো নিজের পছন্দের, আবার কখনো বা রোগীর পছন্দের মিউজিক। তাই সিইওরা ভালো গান শুনতে পারেন।’

চাপমুক্ত থাকার এক অভিনব উপায় দেন চিত্রগ্রাহক ও চিত্রনির্মাতা অতুল কাসবেকর। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রতটে বালুর ওপর খালি পায়ে হাঁটুন। নিজেকে সময় দিন। পাশাপাশি অবশ্যই নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।’

নির্ভার সুখী জীবনের পাঁচ উপায়

সব মানুষই সুখের পেছনে ছোটে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে, এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপও বেড়ে চলেছে। গবেষকেরা বলছেন, সুখ হচ্ছে বেছে নেওয়ার বিষয়। যা-ই ঘটুক না কেন, মানুষ তার আবেগের ওপর কতটা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, এটি তার ওপর নির্ভর করে। জীবনে চাপমুক্ত হয়ে সুখী হওয়ার পাঁচটি উপায়ের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

জীবনে যত মানুষের সঙ্গে পরিচয় রয়েছে, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এতে নিজের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। সুপ্রভাব পড়তে পারে অন্যের জীবনেও। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিষয়টি সুখের সঙ্গে জোরালোভাবে লেগে থাকে। গবেষকেরা বলেন, যাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাঁদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব দূর হয় এবং অন্যের চেয়ে তাঁরা বেশি সুখী হন।

আশাবাদী

সুখী হওয়ার অন্যতম মূল উপাদান হচ্ছে আশাবাদী হওয়া। যখন কোনো কিছু নেতিবাচক দেখবেন, এতেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ ধরনের খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়, পরিবর্তন আসবে। ইতিবাচক আবেগ স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানুষকে সুখী রাখে।

বন্ধুত্ব

সুখ অর্থ সামাজিকভাবে দৃঢ় বন্ধনে যুক্ত থাকা। গবেষকদের মতে, এক বা একাধিক নিবিড় বন্ধুত্বে সুখী হওয়া যায়। অনেক বন্ধু মিলে নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা বা পারস্পরিক শেয়ার করার বিষয়টি এর ওপর নির্ভর করে না। গভীর বন্ধুত্ব ও পরস্পরকে সহযোগিতার মনোভাব মানসিক চাপ কমিয়ে সুখী করে।

ব্যায়াম

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের সুখ বাড়াতে ব্যায়াম ভূমিকা রাখতে পারে। এটি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখে। গবেষকেরা বলেন, দৈনিক ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে মনে যতই দুঃখ থাক না কেন, তা সুখে রূপান্তর করতে পারে। ব্যায়াম করলে শরীরের ওজন যেমন ঠিকঠাক থাকে, তেমন অন্যান্য স্বাস্থ্য সুফল পাওয়া যায়। হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিসের মতো রোগও শরীরে বাসা বাঁধে না। মন থাকে চাপমুক্ত।

স্বাস্থ্যকর খাবার

প্রচুর ফল আর শাকসবজি খেলে জীবনে সন্তুষ্টি আসে। মন ভালো হয় আর সুখ বাড়ে। ফল আর সবজি স্বাস্থ্যর ওপর যেমন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি সুখ অনুভূতি প্রখর করে। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন, দিনে ৮ ভাগের বেশি ফল আর সবজি খেলে মানুষের জীবনে সুখের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে যা খাবেন

দিনকে দিন যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে মানুষের জীবন। প্রাত্যহিক জীবনে নানা কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠতে হয়। শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড মানসিক চাপে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। অথচ যে কোনো কাজ সঠিকভাবে করার জন্য চাপমুক্ত থাকাটা খুবই জরুরি। স্বস্তির খবর হল, মানসিক চাপমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে নির্দিষ্ট এমন কয়েকটি খাবারের তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশন।

হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৯ শতাংশ মানুষ চাপের মধ্যে কাজ করার সময় খাদ্য গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে, ৪৪ শতাংশ মানুষ করেন ঠিক এর উল্টোটা। তাঁরা খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দেন। গবেষকদের দাবি, চাপের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে কম খাবার গ্রহণ করার এই প্রবণতা ক্ষতিকর। এতে করে যথাযথ পুষ্টি না পেয়ে শরীর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। আর তার নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়ে মনে। চাপমুক্ত থাকার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চাপমুক্ত থাকতে ডিম খেতে হবে

ডিমের মধ্যে রয়েছে হাই প্রোটিন এবং ভিটামিন বি। শর্করা জাতীয় কিছু খাবার রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রোটিন তা করে না। সকালের নাশতা হিসেবে আদর্শ হতে পারে ডিম। চাপমুক্ত থাকতে বেশি বেশি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

স্যামন মাছে মন চাঙ্গা

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উত্স স্যামন জাতীয় মাছ। শরীরে প্রদাহের কারণে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যেতে পারে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। এভাবে চাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ ছাড়া গবেষকেরা দাবি করেছেন, স্যামন জাতীয় মাছ খেলে মন চাঙ্গা থাকে।

চাপমুক্ত থাকতে চাইলে সামুদ্রিক মাছ

সারডাইন ও টুনার মতো সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। চাপমুক্ত থাকতে চাইলে এসব সামুদ্রিক মাছ খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

যথেষ্ট পুষ্টিকর তিসির দানা

তেল ও আঁঁশ উত্পাদনকারী গুল্ম তিসি। তিসির দানাও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উত্স। চাপমুক্ত থাকতে চাইলে তিসির দানা খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া যথেষ্ট পুষ্টিকর একটি খাবার হিসেবেও তিসির দানার সুনাম আছে।

দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে কুমড়ার বিচি

কুমড়ার বিচিতে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম এবং জিংক। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় জিংক। আর মানুষকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার মানসিক রোগের চিকিত্সায় ম্যাগনেশিয়াম ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া শারীরিক শক্তি এবং সহ্য ক্ষমতা বাড়াতে ম্যাগনেশিয়াম ব্যবহার করেন অ্যাথলেটরা।

চাপমুক্ত রাখতে সাহায্য করে সবুজ শাক

সবুজ শাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়ামসহ আরও অনেক ধরনের পুষ্টিকর উপাদান থাকে যা মানুষকে চাপমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

চকোলেটে মন ফুরফুরে

চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে চকোলেট। মন ফুরফুরে রাখতে চকোলেটের কোনো তুলনা হয় না। মানুষের চিন্তাশক্তিও বাড়িয়ে দিতে পারে এটি।

চাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের চর্চা

আমাদের পরিপাকতন্ত্র, প্রায় ২৫ ফুট লম্বা অন্ত্র, নানা ধরনের জানা-অজানা রাসায়নিক, উৎসেচক আর হরমোন মিলে এখনো রহস্যময়। তবে এ কথা ঠিক, যুগের পর যুগ ধরে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রভাব শরীরের সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর পড়েছে। আর পরিপাকতন্ত্র এর বড় উদাহরণ। তাই নিত্যনতুন নানা ধরনের রোগবালাই আক্রমণ করছে মানুষকে। পাল্টে যাচ্ছে রোগের ধরন, প্রকৃতি, আচরণ। আজকের চিকিৎসকেরা তাই বলেন, ভালো থাকতে হলে ভালোভাবে জীবন যাপন করতে হবে।

পেটের ভেতরকার ক্ষুদ্র প্রাণী

মানুষের বৃহদন্ত্রে যত কোষ আছে, তার ১০ গুণ বেশি আছে নানা জাতের শত শত প্রজাতির জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া। এর সব কটি সম্পর্কে এখনো আমরা ওয়াকিবহাল নই। তবে এটুকু জানা গেছে যে এরা আমাদের ভালো থাকা না-থাকাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করে। আমরা যেসব খাবার হজম করতে পারি না, যেমন পলিস্যাকারাইড, এরা তা ভেঙে শক্তি জোগায়; যা আমাদের শক্তির চাহিদার ১০ শতাংশের মতো পূরণ করে। তাই এই উপকারী জীবাণুদের ধ্বংস করাটা ঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিকের অকারণ ও অদূরদর্শী ব্যবহার এদের সঙ্গে মানুষের চমৎকার সহাবস্থানকে বিনষ্ট করে।
আজকাল খাবারের মধ্যে প্রচুর আঁশ খেতে বলা হয়। বলা হয় আঁশযুক্ত খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারকেও প্রতিহত করে। এই আঁশের সঙ্গেও সম্পর্ক আছে অন্ত্রের জীবাণুদের।

ভালো থাকার জন্য চাই স্বাস্থ্যকর খাবার

প্রাণিজ আমিষ আমাদের জন্য খুব ভালো নয়। তাজা শাকসবজি ও ফলমূল সুস্থ রাখে পরিপাকতন্ত্রকে। অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভোজ্যতেল হিসেবে কর্ন তেল, সানফ্লাওয়ার তেল, সয়াবিন ও জলপাই তেল অপেক্ষাকৃত ভালো। একই তেল বারবার ব্যবহার করলে বা উচ্চ তাপমাত্রায় পরিবর্তিত হয়ে তৈরি করে ট্রান্স ফ্যাট, যা ক্ষতিকর। ভাজা-পোড়া ও ফাস্টফুড তাই বর্জন করাই ভালো। ধূমপান যে কেবল ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি করে তা নয়, এটি পেটের ক্ষত বা আলসার ও ক্যানসারও সৃষ্টি করতে পারে।

ক্ষতিকর রাসায়নিক

ফলমূলে রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ে যত উচ্চবাচ্য করা হয়, আমরা আসলে ততটাই নীরব আরেক ভয়ংকর রাসায়নিকের ব্যবহার সম্পর্কে। আর তা হলো অনিয়ন্ত্রিত সার ও কীটনাশক। যা অচিরেই পরিপাকতন্ত্রসহ দেহের নানা ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেবে।

চাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের চর্চা

পরিপাকতন্ত্রের অনেক রোগই অনিরাপদ পানি, খাবার ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতাজ্ঞানের অভাব থেকে সৃষ্ট। এখনো আমাদের দেশে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমেনি। বাড়ি বা রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতার অভাব আর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো এর জন্য দায়ী। ছোটবেলা থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দিতে হবে শিশুদের।

৫০০০+ মজদার রেসিপির জন্য Google Play store থেকে Install করুন “Bangla Recipes” মোবাইল app…. 🙂
.
মোবাইল app Download Link >>> https://bit.ly/2YsK4MO

Loading...