জেনে নিন চোখের নিচে কালি হওয়ার কারন ও দূর করার ৯ সহজ ঘরোয়া উপায়

চোখের নিচে কালি নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এই চোখের কালি দূর করতে কত কিছুই না করলেন। একটু কমলেও আবার আগের মতো হয়ে যায়। তাহলে উপায়? পরামর্শ দিয়েছেন মিডফোর্ড হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুল হক।

এর কারণ

১. ঘুমের অসুবিধা
কম ঘুম রক্ত সঞ্চালনকে ধীরগতির করে। এটি চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল তৈরির একটি কারণ। এটি কেবল চোখের নিচে কালো দাগ তৈরি করে না, ত্বকের আরো সমস্যা করে।

২. চোখের মেকআপ
এটি আরেকটি বিষয় চোখে ডার্ক সার্কেল তৈরি করার। চোখের মেকআপ ঠিকমতো না পরিষ্কার করলে কালো দাগ পড়তে পারে।

৩. পানিশূন্যতা
বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, পানিস্বল্পতা ও চোখের নিচে কালো দাগের যোগ রয়েছে।

৪. খুব বেশি চোখ ঘষা
এটি আরেকটি প্রচলিত অভ্যাস চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার। কারণ, এই অভ্যাস ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চোখ ঘষার কারণে ত্বকে প্রদাহ হয়ে কালো দাগ তৈরি হয়।

৫. গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া
চোখের চারপাশের ত্বক একটু স্পর্শকাতর ও পাতলা। গরম পানি দিয়ে চোখ ধোয়া পিগমেন্টেশন তৈরি করতে পারে। এতে চোখের নিচে কালো দাগ হয়।

৬. ভালো পণ্য ব্যবহার না করা
এ ছাড়া ভালো পণ্য না ব্যবহার করার কারণেও অনেক সময় চোখে কালো দাগ পড়তে পারে। তাই চোখে ব্যবহারের জন্য কোনো পণ্য কিনলে সেটি যেন ভালো মানের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সমস্যা দূর করতে

১. পরিমিত ঘুমানোর অভ্যাস। অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।

২. ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এমন ওষুধ পরিহার করতে হবে।

৩. পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। তবে রাতে ঘুমানোর আগে বেশি পানি খাওয়া অনুচিত।

৪. চোখ কচলানো একেবারে বাদ দিন। চোখে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন।

৫. মাথার নিচে অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। এটি অনেক সময় চোখের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

৬. প্রচুর সবুজ মৌসুমি শাকসবজি আর ফলমূল খান।

৭. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

৮. দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন।

৯. রোদে বাইরে বের হলে রোদচশমা ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরে বসে সহজেই আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে চোখের নিচের কালি দূর করতে পারেন।

১. পাতলা করে কাটা শসা চোখে দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চোখ বন্ধ রাখুন।

২. ব্যবহূত টি ব্যাগ ফ্রিজে রেখে সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চোখে রাখুন।

৩. পাতলা করে কাটা আলুর টুকরা ফ্রিজে রেখে চোখে রাখুন।

৪. আলু ও শসা সমপরিমাণে মিশিয়ে চোখের চারপাশে ক্রিম হিসেবে লাগাতে পারেন।

৫. টমেটোর রস অনেক ক্ষেত্রে উপকারী।

কখন চিকিৎসককে দেখানো জরুরি

চোখের কালো দাগ এবং ফোলা যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং দৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অযথা বাজারের বাহারি ক্রিমে আকৃষ্ট হবেন না। এতে উল্টো হিতে বিপরীত হতে পারে। নিয়মিত নিজের যত্ন নিন, হাসিখুশি থাকুন।

চোখের নিচে কালি পড়লে ভ্রু কুঁচকে যাওয়া স্বাভাবিক। নানা কারণে চোখের নিচে কালি বা ডার্ক সার্কেল হতে পারে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বয়স বৃদ্ধি। বয়সের সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন কমে গিয়ে ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং চোখের নিচে রক্তনালি রং পাল্টায়। জিনগতভাবে কারও কারও চোখের নিচের ত্বক পাতলা ও ফ্যাকাশে, সামান্য কারণেই সেখানে সূক্ষ্ম রক্তনালিতে রক্ত জমে কালো দেখায়। অ্যালার্জিতে এই রক্তনালিতে হিস্টামিন নিঃসরণ হয় এবং চোখের নিচটা ফোলা ও কালচে দেখায়। ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে এই কালি পড়ার সমস্যা বাড়ে।

কী করবেন:

১. ঠান্ডা সর্দি বা অ্যালার্জি থাকলে রাতে দুটো বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু করে শোবেন, যাতে রক্ত চোখের দিকে প্রবাহিত না হয়।
২. সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা পানিতে এক টুকরো তুলো ভিজিয়ে চোখের ওপর চেপে ধরুন। এতে জানালাগুলো সংকুচিত হবে ও কালচে রক্ত দূর হবে।

৩.ওমেগা থ্রি যুক্ত খাবার, যেমন সামুদ্রিক মাছ, বাদাম ইত্যাদি খাওয়া ভালো। এ ছাড়া প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত খাবার খান, যেমন লেবু, কমলা, মালটা, জাম্বুরা ইত্যাদি।
৪. সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মিতে ত্বকের কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যারা রোদে ঘোরাঘুরি করে তাদের ত্বকে বেশি কালি পড়ে, দ্রুত বুড়িয়ে যায়। রোদে বের হলে তাই কম বয়স থেকেই সানস্ক্রিন, রোদচশমা ব্যবহার করতে হবে।

৫. চোখের নিচের কালি দূর করতে নানা ধরনের অ্যান্টি ডার্ক সার্কেল ক্রিম পাওয়া যায়। এগুলো মূলত কোলাজেন তৈরি ও ভঙুর রক্তনালিকে মজবুত করে। ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিম ব্যবহার করা যায়।

৬. দুশ্চিন্তা দূর করে ঝরঝরে থাকুন, রাত জাগবেন না। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম দিন।

ডার্ক সার্কেল দূর করতে আলুর ভিন্নধর্মী ব্যবহার
অনেকেই জানেন যে, আলু চোখের নীচের এই কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। তবে সঠিক উপায়ে আলু ব্যবহার না করলে ডার্ক সার্কেল কখনোই পুরোপুরিভাবে দূর হবে না। কীভাবে আলু ও আলুর সাথে অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে সেটা বর্ননা করা হলো।

কাঁচা আলুর রস
শুধু আলুর রসেই রয়েছে ভিটামিন- সি, এ এবং অন্যান্য এনজাইম। যা ত্বকের জন্যে উপকারী এবং ত্বকের কালো ভাব দূর করতে কাজ করে থাকে।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে
আলু ছিলে নিয়ে ভালোভাবে ছোট কুচি করে নিতে হবে। কুচি করা আলু থেকে ভালোভাবে চিপে রস বের করে নিতে হবে। এই রস এক ঘন্টার জন্যে রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর এই রসে তুলার বল ভিজিয়ে নিয়ে চোখের নীচের অংশে তুলার বলগুলো রেখে দিতে হবে ১৫-২০ মিনিট সময়ের জন্য। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিয়ে তলায়ের সাহায্যে পানি শুকিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন একবারের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যতদিন না পর্যন্ত ডার্ক সার্কেল দূর হচ্ছে।

আলুর স্লাইস
ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দূর করার জন্যে এটা অন্যতম সহজ একটি উপায়। এর জন্যে প্রথমে একটি আলু এক ঘণ্টার জন্যে রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। ঠাণ্ডা আলুর মাঝ বরাবর কেটে দুইটি পাতলা স্লাইস তৈরি করতে হবে। পাতলা করে কাটা এই আলুর স্লাইস দিয়ে ভালোভাবে দুই চোখ ঢেকে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, চোখের নীচের অংশ যেন ভালোভাবে আবৃত থাকে। এইভাবে ২০ মিনিট রেখে দেবার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। দ্রুত ফলাফল পেতে চাইলে এক দিনের মাঝে দুইবার আলুর স্লাইস এইভাবে ব্যবহার করতে হবে।

আলু এবং শসার মিশ্রণ
শসাতে রয়েছে কোলাজেন। যা এক ধরণের প্রোটিন। এই কোলাজেন ত্বককে টানটান করতে এবং ত্বকে উজ্জ্বলভাব তৈরি করতে সাহায্য অরে থাকে। এছাড়া, এতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাসট্রিজেন্ট, যা ত্বকের কালো দাগকে দ্রুত দূর করতে কাজ করে। একইসাথে শসার ৯৫ শতাংশ পানি বলে, এটা ত্বককে কোমল রাখতেও সাহায্য করে থাকে। আলু এবং শসা একইসাথে মিশিয়ে চোখের জন্য প্যাক তৈরি করলে সেট খুব ভালো কার্যকরী হয়ে থাকে।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে
একটি আলু গ্রেট করে সেটা থেকে রস তৈরি করে নিতে হবে। একটি শসার মাঝের নরম অংশ বের করে আলুর রসের সাথে মেশাতে হবে। এরপর এ মিশ্রণটি রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এই মিশ্রণটি চোখে মাখিয়ে ২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। নরম কাপড় কিংবা তুলার সাহায্যে চোখ থেকে মিশ্রণ তুলে এরপর ঠাণ্ডা পানির সাহায্যে চোখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই পদ্ধতিতে মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে।

আলু, মধু ও অলিভ অয়েল
মধুতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান সমূহ। যা ত্বককে আরাম প্রদান করে থাকে। এছাড়া অলিভ অয়েলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ, ভিটামিন সমূহ এবং প্রদাহবিরোধী উপাদান সমূহ যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। একসাথে এই সকল উপাদান মেশানোর ফলে ত্বক ও চোখের ত্বকের জন্য উপকারী একটি মিশ্রণ তৈরি হয়।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে
একটি আলু টুকরা করে কেটে তার সাথে এক চা চামচ মধু এবং দুই চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপরে ঘন পেষ্টের মতো মিশ্রণ তৈরি হবে। এই পেষ্ট চোখের নিচে ভালোভাবে মাখিয়ে ৩০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে চোখের ভেতরে যেন এই পেষ্ট প্রবেশ না করে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে এই পেষ্ট।

আলু ও লেবুর রস
লেবুর রসে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান, যা চোখের চোখের নিচে কালি কমাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া, ত্বককে উজ্জ্বল করতে, ত্বকে পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে লেবুর রস।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে
একটি আলু ভালোভাবে ব্লেন্ড করে তাতে চার টেবিল চামচ পরিমাণ লেবুর রস মেশাতে হবে। এই মিশ্রণটি এক ঘন্টার জন্য রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। মিশ্রণ ঠাণ্ডা হয়ে গেলে চোখে মাখিয়ে ১৫ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা পানির সাহায্য চোখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই পদ্ধতিতে চোখে মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে।

আলু ও টমেটো
টমেটোতে রয়েছে লেবুর রসের মতোই প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। যা ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে কোমল করে। এতে রয়েছে লাইকোপেন, যা এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের নিচে কালি কমাতে সাহায্য করে থাকে। একইসাথে টমেটোতে থাকা ভিটামিন-এ ত্বকের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে থাকে।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে
একটি আলু ও একটি টমেটো কুচি করে কাটতে হবে। একইসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পেষ্ট তৈরি করতে হবে। তৈরিকৃত পেষ্ট চোখে ভালোভাবে মাখিয়ে ২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। ভালো ফলাফল পাবার জন্য একদিন পরপর এই পেষ্ট ব্যবহার করতে হবে।

আলু ও কাঠবাদাম
কাঠবাদামে থাকা প্রদাহ বিরোধী উপাদান চোখের নীচের ফোলাভাব দূর করতে এবং চোখের চারপাশের চোখের নিচে কালি দূর করতে সাহায্য করে থাকে। একইসাথে কাঠবাদামে রয়েছে প্যালমিটিক অ্যাসিড এবং রেটিনল। যা চোখের চারপাশের নরম ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে
৩-৫ টি কাঠবাদাম সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম এবং আলু ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তৈরিকৃত মিশ্রণ তুলার বলের সাহায্যে চোখে মাখিয়ে ২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা পানির সাহায্যে চোখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। দ্রুত ফলাফল পাওয়ার জন্যে একদিন পরপর এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ডার্ক সার্কেল দূর করতে দুধের ব্যবহার
দুধ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং কালচে দাগ দূর করে ত্বক নরম ও কোমল করতে সহায়তা করে। ঠাণ্ডা দুধ ডার্ক সার্কেলের সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকরী।

যা লাগবে: ঠাণ্ডা দুধ ও তুলোর প্যাড।

ব্যবহার পদ্ধতি:
ফ্রিজে রেখে দুধ ঠাণ্ডা করে নিন। বেশ খানিকটা ঠাণ্ডা করে নেবেন প্রায় বরফ শীতলের মতো। এরপর এই দুধ তুলোর প্যাডে লাগিয়ে নিন। এরপর এই তুলোর প্যাড চোখ বন্ধ করে চোখের উপর চেপে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রিলাক্স করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। দ্রুত ডার্ক সার্কেলের সমস্যা সমাধান হবে খুব সহজেই কোনো ধরণের ঝামেলা ছাড়াই।

ঘরে তৈরি ডার্ক সার্কেল রিডিউসিং আই প্যাচ
আজকাল ডার্ক সার্কেল রিডিউস করতে আই প্যাচ এর বেশ নাম শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ভালো কোনো ব্রান্ডের আই প্যাচ অনেকেরই হাতের নাগালে নেই কিংবা অনেকে এত টাকাও ইনভেস্ট করতে চান না। আচ্ছা! বাসায় আই প্যাচ তৈরি করে নিলে কেমন হয়? খুব ভালো, তাই না? তো চলুন না খুব সহজেই বাসায় নিজেই তৈরি করে নিই আই প্যাচ।

উপকরণ

১. গ্রিন টি : গ্রিন টি চোখের ডার্ক সার্কেল এর জন্য বেশ কার্যকরী বলে আমরা সবাই-ই জানি। গ্রিন টি তে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ট্যানিন রয়েছে, যা আমাদের চোখের ডার্ক সার্কেল এবং ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

২. অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল স্কিনকে হাইড্রেট এবং ময়েশ্চারাইজ করে এবং স্কিন সেলসকে সুদিং ফিল দেয়।

৩. ভিটামিন ই ক্যাপসুল: ভিটামিন ই ডার্ক সার্কেল এবং রিংকেল দূর করতে সাহায্য করে।

৪. আনফ্লেভারড জেলাটিন / আগার আগার পাউডার।

আই প্যাচ বানাতে হলে আমাদের মাত্র ২ টি ধাপ ফলো করতে হবে। প্রথম ধাপে আমরা আই প্যাচ গুলো বানিয়ে নিব। দ্বিতীয় ধাপে বানাবো আই সিরাম।

প্রথম ধাপ :

১. চুলায় একটি হাড়িতে ১ কাপ পানি নিয়ে এটি ফুটিয়ে নিন। এর মধ্যে ১ টি গ্রিন টি ব্যাগ নিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন, যতক্ষণ না পর্যন্ত ভালোভাবে লিকার তৈরি হয়।

২. এবার গ্রিন টি ব্যাগটি তুলে নিয়ে এর মধ্যে ২-৩ চামচ আনফ্লেভারড জেলাটিন পাউডার / আগার আগার পাউডার যেটাই আপনার কাছে আছে সেটা পানিতে দিয়ে নিন এবং ভালোমতো মিশিয়ে নিন। জেলাটিন পাউডার যেকোন সুপার শপে কিনতে পাবেন।

৩. এবার কোনো সমান জায়গাতে একটি প্লাস্টিক পেপার বিছিয়ে নিয়ে এর উপর মিশ্রণটি ঢেলে নিন। ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করুন এটি জমে যাওয়ার জন্যে।

৪. আমি ছবিতে যেমন করে কেটে দেখিয়েছি সেভাবে আই প্যাচের শেইপে এক টুকরা কাঠবোর্ড কেটে নিন। এই কাঠবোর্ড টিকে জমে যাওয়া জেলাটিন মিশ্রণের উপর রেখে ছুরির সাহায্যে কেটে নিন। এমন করে ২টি আই প্যাচ কেটে প্লাস্টিক থেকে তুলে নিন। ব্যস!

দ্বিতীয় ধাপ :
একটি ছোট বাটিতে হাফ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে নিয়ে এর অয়েল টুকু ঢেলে নিন। দুইটি উপকরণ খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে তৈরি করে ফেলুন আই সিরাম।

আই প্যাচ কীভাবে ব্যবহার করবেন?
একটি ছোট ব্রাশের সাহায্যে অল্প অল্প করে আই সিরাম নিয়ে আই প্যাচ গুলোর এক সাইডে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এবার বেড এ শুয়ে পড়ুন এবং আই প্যাচ গুলো আকৃতি অনু্যায়ী দুই চোখে ডার্ক সার্কেল এর উপর বসিয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে শুয়ে থাকুন। এরপর আই প্যাচ গুলো তুলে নিন। এভাবে প্রতিদিন এই প্রসেসটি করুন। এই আই প্যাচ গুলো ফ্রিজে ১০-১৫ দিন সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই তো জেনে নিলেন, কীভাবে আই প্যাচ তৈরি করতে পারবেন বাসায় বসেই। তাহলে আর দেরি কেন ডার্ক সার্কেলকে বলুন বাই বাই।

সুত্রঃ হাবিবুল ইসলাম; ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, চর্ম বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল; বোল্ড স্কাই; সায়মা জামান, বিউটি এক্সপার্ট; সাজগোজ।

৫০০০+ মজদার রেসিপির জন্য Google Play store থেকে Install করুন “Bangla Recipes” মোবাইল app…. 🙂
.
মোবাইল app Download Link >>> https://bit.ly/2YsK4MO

Loading...